Posts

Showing posts with the label Life Hack

মেন্টরের কেরামতি

Image
মেন্টর তাকেই বলে যে আপনাকের প্রতিটি মুহুর্ত গাইড করে আপনার স্বপ্নের দিয়ে এগিয়ে যেতে। স্বপ্ন কিংবা গন্তব্যে পৌছানোর জন্য একজন মেন্টর এর ভূমিকা সত্যিই অভাবনীয়। আমরা অনেকেই হয়তো অনেক মুভিতে দেখেছি যেখানে একজন মেন্টর কি পরিমাণ পরিশ্রম করে। আপনিও যদি চান আপনার স্বপ্নে পৌছাতে তাহলে আপনাকেও খুজে বাহির করতে হবে এমন একজন মানুষকে যিনি ইতি মধ্যেই আপনার স্বপ্নকে জয় করে ফেলেছে কিংবা সেই পথে অনেকদিন ধরে হাটছে। এখন আসি মূল কথায় , আপনি হয়তো এমন কাউকে এখনো চিনেন না যিনি আপনাকে সাহায্য করবে, তখন কি করবেন? 👀 /=/ খুব সহজ গুগল করুন দেখবেন অনেক ব্যাক্তি আপনার স্বপ্নের জায়গায় বিচরণ করছে। তাদের বই পড়ুন, অটোবায়োগ্রাফি পড়ুন। যেমনঃ আমার ইচ্ছা একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া। আর তাই আমার প্রিয় ব্যাক্তি হল "এলন মাস্ক" । যিনি প্রতিটি পদে পদে ঠেকে শিখেছে। উনি খুব কম বয়স থেকেই তার যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। একটা মজার বেপার দেখুন, এলন মাস্ক কিন্তু আমার মত নগ্য ব্যাক্তিকে চিনেও না। কিন্তু তার অটোবায়োগ্রাফি, তার বই, তার লেকচার কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করছে এগিয়ে যেতে। তাছাড়াও আমি সকল বড় বড় উদ্যোক্...

শুধু এক দিক থেকে বিচার করে সিএসইতে (CSE) ভর্তি করাবেন না

Image
সিএসই (CSE) যার পূর্ণরুপ হল কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। ২০১৮ সালে এই সাবজেক্ট এর বিশাল বাজার মূল্য রয়েছে কারণ বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। কিন্তু একটা বিষয় আমি খেয়াল করছি গত তিন বছর এর বেশি সময় ধরে তা হল এই সাবজেক্ট এ যারা পড়তে আশে তারা ২ টা দিক খেয়াল করে আশে।  ১) বাজার চাহিদা রয়েছে ২) আমার ছেলে/মেয়ে তো সারা দিন মোবাইল কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকে তাকে এই সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে দিলে ভালো করবে।  প্রথমেই বলে রাখি আমার এই পোস্টটা পড়ার পর যাদের স্বপ্ন সিএসই নিয়ে পড়াহয়তো তারা হতাশ হতে পারেন। তবে আমি যা লিখতেছি তা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে লিখা তাই এই লিখাটা যে বাকি সবার মতের সাথে মিলবে অথবা ১০০% সঠিক তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। বাজার চাহিদাঃ সিএসই সাবজেক্ট এর বাজার চাহিদা ভালো তা দেখে যদি আপনি/আপনার ভাই/বোন/ছেলে/মেয়েকে এই সাবজেক্ট এ ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে আমার মতামত হবে এই সিদ্ধান্ত থেকে বেড়িয়ে আসুন। কারণ আমার দেখা মতে এইটাই এমন এক সাবজেক্ট যেই সাব্জেক্ট এর পিছনে ২৪ ঘণ্টার মঝে ১৮ ঘণ্টা কাজ করার পরও নিজেকে বেস্ট বলে দাবি করা প্রায় আসম্ভব। তাহলে প্রশ্ন করতে পারেনঃ আপ...

ফেসবুক ওরিয়েন্টেশন

Image
ফেসবুক ওরিয়েন্টেশনঃ যা করবো আর যা ছাড়বো! কিছুদিন আগে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাবার লাইভ ভিডিওটি দেখছিলাম। চমৎকার সব কমেন্ট সেখানে, জাকারবার্গ সাহেবকে অভিনন্দন জানানো থেকে শুরু করে সে নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতায় ভরা সেসব কমেন্ট। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও কিছু কমেন্ট দেখলাম। কয়েকটিতে চোখ আটকে গেল। একজন লিখেছেন, “নোয়াখালি বিভাগ চাই!” আরেকজনের সরস কমেন্ট- “এ কেমন বিচার?” অনেকে আবার অবাক করে চিকন পিনের চার্জার চেয়েই যাচ্ছে। একটা কথা মাথায় এলো এসব দেখে। এই যে মার্ক জাকারবার্গের ভিডিওতে এমন অপ্রয়োজনীয় আর অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করেছেন অনেকেই, ব্যাপারটা কিন্তু নেহাতই রসিকতার পর্যায়ে থাকে না। আমাদের এরকম কমেন্ট, এগুলো কিন্তু শুধু একজন মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে না। এগুলো একটা দেশকেও রিপ্রেজেন্ট করে। এসব দেখে বিদেশের মানুষেরা মনে করতেই পারে, বাঙ্গালিরা হচ্ছে বোকা, তারা জানেও না কোথায় কি কমেন্ট করতে হয়! একবার ভেবে দেখুন তো ব্যাপারটা আমাদের দেশের জন্য কি সাংঘাতিক অপমানজনক? চিন্তা করে দেখলাম, সবাইকে দোষ দিয়েই বা কি লাভ। আমরা স্কুল কলেজে ...

২৭ বছর বয়সে

Image
২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন, তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন। আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি, তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে। কর্পোরেটে যে সবসময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়, তা নয়। দিন বদলাচ্ছে, কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে। শুধু বেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধু বেতনই পাবেন। কথা হল, কেন এমন হয়? সবচাইতে ভালটি সবচাইতে ভালভাবে করে কীভাবে? কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দুএকটি বলছি। প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা। যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী। এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না। তা-ই যদি হত, তবে গাধা হত বনের রাজা। শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা। অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড, নট ইওর এফর্টস্। আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে? সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়। আমার বন্ধুকে দেখেছি, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিং করে। ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই! আপনি ...

দরিদ্র বাংলাদেশ

Image
বাংলাদের একটি দরিদ্র দেশ। হ্যা আমি জানি বাংলাদের একটি উন্নয়নশীল, মধ্যবিত্ত আয়ের দেশ। অন্তত দরিদ্র নয়। কিন্তু আমি যে দরিদ্র বললাম তার একটি কারণ আছে। এবার বলছি কারণটি...... আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা A+ ভিত্তিক। বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হবার সময় থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগিতার পালা। ভর্তি হবার ৬ বছরের মাথায় তাকে দিতে হয় জীবন তৈরি করার মহৎ পরীক্ষা, যাতে A+ পেয়েই জীবনের প্রথম ধাপ এগোনো। এর পর তো আছে jsc, ssc, hsc। এখানেও রয়েছে A+, যা না পেলে সে ছাত্র হিসেবে গন্য নয় বা তার দ্বারা ভবিষ্যতে কিছু হবে বলে কেউ খুব একটা আশা করে না। আমাদের দেশের স্কুলগুলো এই A+ পাওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে। আর এক এক জন কিভাবে A+ এর ভিতরে অন্যতম হবে তার চিন্তা করেই জীবন শেষ। ক্লাসে যদি বলা হয় কে কি হবে তাহলে হাত বেশি উঠবে ডক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক...... এখানেও শিক্ষক এর একটি কোটা রয়েছে। তা হল বুয়েট থেকে পড়ে আসলে দাম বেশি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলে তো কথাই নেই। ভালো পড়াক আর বুঝাক তা কোনো ব্যাপার না সে বুয়েটে পড়ুয়া (বর্তমানের কোচিং সেন্টার এর বড় ভাইগুলো কে উদ্দেশ্য করেই বললাম)। এবার আসি ডাক্...

কেন গবেষণা করব?

Image
এই রচনাটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে গরু খুঁজতে উৎসাহিত করা। এখন যদি আপনি বলেন, ভাই আমার তো গরু নাই, তাহলে গরু খুঁজবো কেমন করে, তাহলে আমি বলবো যে অবশ্যই আপনার গরু আছে-কিন্তু আপনি জানেন না যে আপনার গরুটা আসলে আপনার গরু। কারণ আপনি কোনদিন আপনার গরুটাকে খুঁজেনই নাই, মহাজনের স্বাস্থ্যবান গরু দেখে মনে করেছেন যে আপনার গরু খোঁজার যোগ্যতা নাই। হয়তো আপনি অন্য কারো গরুকে নিজের ভেবে পেলেপুষে বড় করছেন-অথচ জানেনও না যে কেনো করছেন। অথবা আপনি হয়তো ভেড়া হয়ে গেছেন, আপনার মগজে সাদা সাদা পশম গজিয়েছে এবং আপনি সবাই যেদিকে যাচ্ছে, সেদিকেই যাচ্ছেন-কিন্তু কোথায় যে যাচ্ছেন-ঠিক জানেন না। অথচ আপনি কিন্তু গরু খুঁজতে পারতেন, খুজে পেলে সেই গরু দুধ দিতো, মাংস দিতো, হালচাষে সাহায্য করতো আর হাগুও করতো যা দিয়ে আপনি আর আপনার আশেপাশের সবাই উপকৃত হত। আপনি অবশ্য এতোক্ষণে টের পেয়ে গেছেন যে এই গরু সেই গরু না-আর এই ভেড়া সেই ভেড়া না। এই বইয়ের গরু খোঁজা মানে হচ্ছে গবেষণা। গবেষণা (গো+এষণা) শব্দটার বুৎপত্তিগত (etymological) অর্থ হলো গরু খোঁজা। মনে করে দেখেন-এসএসসির বাংলা ব্যকরণের বইতে লেখা থাকে যে গবেষণা একটা রুঢ়ি শব্দ কারণ এই...

শিক্ষা কি মানুষের মনুষত্ব গড়তে সক্ষম?

Image
বাসে উঠে একটা খালি সীট পেলাম। জানালার পাশে আমি বসলাম, আর পাশের সীটটা খালি। একটু পরেই দেখি আমার বয়সী একটা সুন্দরী মেয়ে উঠলো । বোরকা পড়া ,মাথায় হিজাব দেয়া  । মেয়েটাকে এক নজর দেখলেই বোঝা যায় খুবই ভদ্র ও অবস্থা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে । এদিক  ওদিক সিট খুজে শেষে  আমার পাশে এসে বসলো । হাতে একটা মোবাইল  । দেখে বোঝা যায় অনেক দামী একটা মোবাইল ।   কিছুদূর যাবার পর বাস আবার জ্যামে পড়লো ।  মেয়েটা বলে উঠলো, অসহ্য জ্যাম ! আমিও হুম  বলে সম্মতি জানালাম । এরপর টুকটাক কথা  হতে লাগলো । বাসও চলতে শুরু করলো। কথায়  কথায় জানলাম, ইংরেজিতে অনার্স করছে ।  খুবই ফ্রী ভাবে কথা বলছিলাম আমরা ।  .  এয়ারপোর্টের ওখানে গিয়ে আবারও জ্যামে  পড়লো বাস। বিরক্তিকর জ্যাম! জ্যামের  মধ্যেই বাসে ওঠলো সাদা শার্ট পড়া কালো  চেহারার মধ্যে বয়সী একটা লোক । অনেক  দিনের পুরনো বোধহয় শার্ট টা । ময়লা হয়ে  আছে। তার হাতে অনেক গুলো নামাজ শিক্ষা বই  । কাধে কালো রঙের একটা ব্যাগ । লোকটা  নামাজ শিক্ষা বই বিক্রি করছে । লোকটা  অনেক্...

আমার কথা

Image
_মানুষ এমনই! যার চিন্তায় আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে, সে-ই সবার আগে আপনাকে "টাক্কু" বলবে। _কাউকে 'হালারপুত' বলে কানের নিচে একটা দিতে ইচ্ছে করা সত্ত্বেও তার সাথে 'ভাই' বলে হেসে হেসে কথা বলার প্রক্রিয়াকেই ফর্মালিটি বলে। _সিদ্ধান্ত নিন- "নিজে খারাপ হবেন, নাকি খারাপদের সহ্য করবেন।" জগতে বেঁচে থাকার কেবল এই দুইটি পথই এখন খোলা আছে। _যে দুঃসময়ে আমার না, সে কখনই আমার না ! _মেয়েটা বলল, "সব ছেলেরাই ছেইম!" আমি বললাম, "তোমারে কে বলছে সব ছেলেদের টেস্ট করতে ??" _পৃথিবীর নিরানব্বই ভাগ মিথ্যা আশ্বাস বিনিময় হয় গভীর রাতে। _আসকারা পেলে সব মানুষই মাথায় উঠে। কেউ উঠে উকুন বেছে দেয়, কেউ চুল ছিড়ে দেয়। _মানুষ ভুলতেই বসেছে, শরীরের ৮০ কেজি গোস্তের চেয়ে মাথার দেড় কেজি মগজ বেশি দরকারি! _তোমার হাতের স্পর্শ আমাকে যতটা শিহরিত করে, পাশেই বিস্ফোরিত ককটেলও ততটা করে না। তোমাকে আমি গ্রেনেড বলে ডাকি ? _কেউ যদি একবার টের পেয়ে যায় যে, সে লাত্থি উষ্টা দিলেও আপনি তাকে ছেড়ে যাবেন না, তাহলে সে আপনাকে লাত্থি উষ্টা দিতেই থাকবে। এবং দিতেই থাকবে... _যখন তুমি তোম...

কেউ সাহস নিয়ে জন্মায় না

Image
শিশুর মত লাজুক কাউকে ভরা ক্লাসে সবার সামনে কথা বলতে বলবে সে যে জ্ঞান হারাবে না তা বলা যায় না। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল সেই লাজুক ব্যক্তিই হয়ে গেলেন একজন সিইও। অনেকেরই জনসম্মুখে কথা বলায় ভীতি কাজ করে। অনেক সফল ব্যক্তিদের মধ্যেও এই ভীতি ছিল। সাহস আসে কোথা থেকে? কেউ সাহস নিয়ে জন্মায় না । অভিজ্ঞতার আলোকেই সাহস তৈরি করে নিতে হয়। যখনই আপনি আপনার ভয়কে মোকাবেলা করবেন, তখনই আপনার আত্ম-বিশ্বাস আর সাহস বাড়বে। ফলাফল যাই হোক না কেন, আপনার ভয়ের কারণে আপনি যা ভাবতেন ব্যাপারটা সেরকম নাও হতে পারে। এই জন্যই “আবার নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ানো”রূপকটি এতটা শক্তিশালী। তাছাড়া, আপনি যতবার ভয়কে প্রশয় দেবেন, তা ততই বাড়বে। আগে হোক বা পরে, একসময় দেখবেন যে আপনার ভয় জয় করার আর কোন সুযোগই নেই আপনার হাতে। এবং এর ফলে আপনার সারা জীবনের আফসোস তৈরি হবে। ভয় মোকাবেলা করা এবং আফসোসের সুযোগ না রাখা দুটোই প্রেরণা সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী। এর কোন যথার্থ কারণ হয়ত নেই তবে এটি যে আপনার ক্যারিয়ার আর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত। আরেকটি কথা যা হলফ করে বলা যায় তা হল: আমাদের সবার মধ্যেই ভয় জয় করে সা...

তুমি যেই কাজটা করতে সবচেয়ে বেশী ভালবাস

Image
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস এর একটা কথা আছে- “ তুমি যেই কাজটা করতে সবচেয়ে বেশী ভালবাস, তা যদি জীবিকা হিসেবে বেছে নাও, তাহলে তোমাকে জীবনে এক দিনও কাজ করতে হবে না।” কিন্তু আমাদের জীবনটা তো আর কনফুসিয়াস এর মতন নয়। আমরা সবচেয়ে বেশী ভালবাসি গল্পের বই পড়তে, আমরা ভালবাসি ছবি আঁকতে, আমরা ভালবাসি মনের সবটুকুন আবেগ ঢেলে দিয়ে প্রিয়জনকে চিঠি লিখতে, আমরা ভালবাসি বন্ধুদের আড্ডায় গান গেয়ে মাতিয়ে তুলতে। আমরা ভালবাসি ছোট বোনের জন্মদিনের আয়োজনটা আরও একটু মজার করে তুলতে, আমরা ভালবাসি তুখোড় বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে দিতে!! কিন্তু আমরা সত্যি কি তা পারি? কনফুসিয়াস নিজেই তা পারেন নাই! তার সকল কাজ, সকল লেখা পুড়িয়ে ফেলা হয়, এমনকি যারা তার কথা মনে রেখেছিল তাদেরও জীবিত কবর দেয়া হয়! আর আমরা তো আমরাই!!! আমরা আমাদের ইচ্ছা টুকুন পুড়িয়ে ফেলি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে গিয়ে। আমরা আমাদের নিজেদের কবর দেই অন্যের ইচ্ছার কাছে! না, এই ইচ্ছাগুলোও হয়তবা অমূলক না, প্রত্যেক বাবা মায় চায়, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎটুকুন নিশ্চিত করতে! আপনি, মা কিংবা বাবা হলে আপনিও চাইবেন। (কেউ কেউ হয়ত মনে মনে বলছেন, না! আমি আমার ছেলে মেয়...

বাঘ, বিড়াল এর ড্রপআউট

Image
আমরা প্রায়ই দেখি ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রটি অনেক সময় পাশ করার পর বা ড্রপআউট হয়েও এমন এক পজিশনে যায় সে ক্লাসের বিভিন্ন টপারদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোন একটা সময় ক্লাসের টপাররা তার পিছনে ছুটতে হয়। আসলে বিষয় যদি আমরা চিন্তা করে দেখি তাহলে দেখা যাবে  ক্লাসের পেছনের ছাত্রটিকে আমরা যেভাবে যাচাই করেছি সেটা হয়ত ঠিক নয় বা সেটা তার সাথে যায় না অথবা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তার এক্সপারটিজ ক্লাসের প্রথম সারির ছাত্রদের তুলনায় কম। সে হয়ত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পেছনের সারির কিন্তু এর চেয়েও বেশী কিছু বিষয়ে প্রথম সারির যেটা হয়ত আমাদের পরীক্ষার পেরামিটারে ছিল না।  যেমন আমরা যদি ১০০ মিটার দৌড়ের চ্যাম্পিয়ন খুজতে গিয়ে কিভাবে দৌড়াতে হয় তা নিয়ে একটা মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করি তাহলে হয়ত দেখা যাবে যে এ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে সে মাঠে দৌড়ের আয়োজন করলে হয়ত সবার শেষে গিয়ে পৌছিয়েছে। যে ভাইভায় প্রথম হয়েছে তার যেমন দরকার আছে তেমনি যে মাঠে গিয়ে প্রথম হয়েছে তারও দরকার আছে। কিন্তু জীবন যুদ্ধটা মাঠে গিয়ে দৌড়ানোর মত যা সব সময় শুধুমাত্র থিউরিতে ভাল করলেই হয় না। দুইটা কম্বিনেশন থাকাটা জরুরী। যখন আমরা মেধা বা এক্সপারিটিজ যাচ...

বিড়ালের গলায় ঘন্টা কে বাঁধবে ?

Image
বিপ্লবের পর চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়েভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল, এত ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে? কোথায় চাকরি পাবে? কেই বা চাকরী দিবে? এত হাজার হাজার বেকারকে চাকরী দেয়ার মত প্রতিষ্ঠান চীনে নেই। এই সময়টায় চীন ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রশিক্ষন দিয়েছিল নানা ধরনের ট্রেড কোর্সে। স্বল্প মেয়াদী ট্রেড কোর্স শিখে চীনের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলো। প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল একটা করে ছোট ছোট কারখানায়। পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরী করার আলাদা খরচ নেই। ফলে পন্যের উৎপাদন খরচ কমে গেলো। বর্তমানে যে কোন পন্য স্বস্তায় উৎপাদন করার সক্ষমতায় তাদের ধারে কাছে কেউ নেই। পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে চাইনিজ পন্যের প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তারা বিশ্ব বানিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি। উপযুক্ত মুল্য দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে দেবে যার গ্যারান্টি আপনি চাইলে ১০০ বছরও দিতে পারবেন। বাংলাদেশে সিমফোনি, ওয়ালটনসহ বহু প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে খাচ্ছে। অপর দিকে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বেকার বা...

এখনই সময় জীবনকে বদলানোরর

Image
যে সাবজেক্টটা কঠিন বলে, তুমি ফেল করেছ। সেই একই সাবজেক্টে, তোমার ক্লাসের অর্ধেকের বেশি পোলাপান ৬০ এর উপরে মার্কস পেয়েছে। যে বৃষ্টির কারণে, যে ঠাণ্ডার ভয়ে তুমি ঘর থেকে বের হওনি। সেই একই বৃষ্টিতে ভিজে, একই ঠাণ্ডায় কেপে কেপে, রিক্সাওয়ালারা ঠিকই সংসার চালানোর টাকা কামিয়ে ঘরে ফিরেছে। যে শহরে ঘুষ, অনিয়ম আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিজনেসে নামার স্বপ্নটা মাটি চাপা দিয়ে রেখেছো। সেই একই শহরে তোমার পাশের ফ্ল্যাটের একজন, ব্যবসায় নেমে ঠিকই এগিয়ে গেছে। সো, সমস্যাটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা,শীতের ঠাণ্ডা কিংবা সাবজেক্ট কঠিন হওয়ার মধ্যে না। সমস্যাটা তোমার মধ্যে। তবে সে সমস্যাটা তোমার স্বপ্ন, সাহস, চেষ্টার কমতি বা সময়ের অভাবের মধ্যে না। . শুনো, যে সিগারেট ছাড়তে চায়, সে সিগারেট ছাড়তে পারে না। যে সামনের সেমিস্টারে দুনিয়া উল্টায় ফেলতে চায়, সে সেই সেমিস্টারেও আগের সেমিস্টারের মতো লাড্ডু মারে। তাই সিগারেট ছাড়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে, আজকে দুপুরে লাঞ্চ শেষ করে সাথে সাথে সিগারেট না ধরিয়ে, ৫ মিনিট পরে সিগারেট জ্বালানোর টার্গেট সেট করতে হবে। পরেরদিন ঠিক একই কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। পুরা সেমিস্টার পড়ে তাল গাছে উঠ...

উঠে দাড়াতে শিখো

Image
মানুষ যখন কোন রিলেশনে থাকে, তখন বিপরীত মানুষটার ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তার চলাফেরা, ওঠাবসা, চিন্তা ভাবনা সব কিছুই বিপরীত মানুষটাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। . কিছু খেতে গেলে মনে হয়, "ও খাইছে তো? একটা ফোন দিয়ে দেখি।" বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাবার কথা থাকলেও, মানুষটা একা একা মন খারাপ করবে ভেবে নিষেধ করে দেয়া হয়। . ক্লাস মিস, টিউটোরিয়াল মিস, বাসায় মিথ্যা কথা, অফিস ফাঁকি, বন্ধুদের সাথে চালাকি ... ভালোবাসার মানুষটার জন্য একটা মানুষ কত ঝুঁকিই না নেয়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে কত শত হ্যাপি মোমেন্টস শেয়ার করা মানুষটাই হঠাৎ একদিন ছেড়ে চলে যায়। তোমাকে এখন তার আর আর ভালো লাগে না। যাবার আগে তোমার পৃথিবীটা শূণ্য করে দিয়ে চলে যাবে। সেই শূন্যতায় তুমি খাবি খেলেও তার কিছু আসবে যাবে না। . কষ্টের প্রথম ধাক্কাটা সামাল দেয়াটাই সবচেয়ে কঠিন। সর্বপ্রথম মাথায় যে চিন্তাটা চলে আসে, "আমার আর বেঁচে থেকে কি লাভ?" প্রথম ধাক্কাটা সামলে ওঠার পর শুরু হয়, সবার সামনে নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর প্রচেষ্টা। প্রতিনিয়ত দুটো যুদ্ধ করে যেতে হয়, একটা নিজের সাথে, আরেকটা বাইরের মানুষদের সাথে। ভেতরের আমিটা ছা...

না থামা যাবে না

Image
এক তরুণী তার বাবাকে সাথে নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছিলো। কিছুক্ষণ পর আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেলো এবং তুমুল ঝড় শুরু হলো। তরুণী টি ভয় পেয়ে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো,বাবা কি করবো! পাশের সিট থেকে বাবা মেয়েকে সাহস যোগালেন, তুমি ড্রাইভ করতে থাকো। থেমো না। তরুণী টি গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো, কিন্তু ঝড়ের প্রচন্ডতা আরো বেড়ে যাওয়াতে গাড়ি ড্রাইভ করা কঠিন হয়ে পড়ছিলো। কিছুক্ষণ পর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠলো। তরুণী টি আবারো তার বাবার কাছে জানতে চাইলো থামবে কিনা। বাবা আগের মতই ড্রাইভ করতে বললেন। কিছুদুর ড্রাইভ করার পরে তরুণী লক্ষ্য করলো তার পথের কিছু সামনে ষোলো চাকার একটা লরি রাস্তার পাশে সাইডকরে থেমে যাচ্ছে। তার সামনে আরো কিছু গাড়ি রাস্তার একপাশে পার্ক করে থেমে আছে।দৃশ্যটি দেখে তরুণী টি বাবাকে বললো, বাবা এবার আমাদের থামতেই হবে। আশেপাশের সবাই দেখো গাড়ি ড্রাইভ করা বন্ধ করে পথের পাশে থেমে যাচ্ছে। কিন্তু বাবা সেই আগের মতই তার সিদ্ধান্তে অটল। হাল ছেড়োনা। তুমি ড্রাইভ করতে থাকো। বাবার কথা শুনে মেয়েটি সাহস পেলো এবং প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যেও আস্তে আস্তে সামনের দিকে আগাতে লাগলো। এভাবে ক...

তোমাকে খুজে বের করতে হবে তুমি কোনটা ভালোবাসো - স্টিভ জবস

Image
বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সারের মাধ্যমে টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, মনস্টার ইনকরপোরেটেড, ওয়াল-ই, আপ-এর মতো অসাধারণ অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন। প্রযুক্তি মনা হওয়ার কারনে হোক আর যে ভাবে হোক, স্টিব জবসকে অনেক ভালো লাগে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন - ২০০৫ সালে দেওয়া স্টিভ জবস এর বক্তৃতা দিয়েই শুরু করলাম। সে বছর ১২ জুন এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যে ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন, সেটি সত্যিই অসাধারণ। প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের। এর বাইরে কিছু নয়। আমার প্রথম গল্পটি ...

ম্যাড সাইন্টিস্ট - নিকোলা টেসলা ( সময়ের থেকে শত বছর বেশি এগিয়ে থাকা এক বিজ্ঞানী )

Image
সমসাময়িক সময়ের থেকে চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞান- বুদ্ধিতে এগিয়ে থাকার সমস্যা ও রয়েছে । কারণ এতে সমাজের মানুষের ভুল বোঝার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে । সময়ের থেকে শত বছর বেশি এগিয়ে থাকা নিকোলা টেসলা ও সেই একই সমস্যার একজন বড় ভুক্তভোগী ছিলেন । নিকোলা টেসলা - এক হারিয়ে যাওয়া মহারথীর নাম । নিকোলা টেসলার সমসাময়িক বিজ্ঞানীরাও তাকে ঈর্ষার চোখে দেখতেন । নিকোলা টেসলা নিজেকে বিজ্ঞানী না বলে ইনভেন্টর বলতে পছন্দ করতেন । টেসলা অসম্ভব জিনিয়াস ছিলেন । "পৃথিবীর সবচেয়ে স্মার্ট মানুষ হবার অনুভূতি কেমন" এই প্রশ্নের উত্তরে একবার আইনস্টাইন বলেছিলেন "আমি জানি না , আপনি নিকোলা টেসলা কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন ।" টেসলা ছিলেন মানবতাবাদী আবিষ্কারক । আজ আমরা যেই AC CURRENT ব্যবহার করি তা টেসলার ই অবদান । অথচ যে থমাস আলভা এডিসন কে আমরা পুঁজো করি , যেই থমাস আলভা এডিসন হওয়া একজন তরুণ মনের লালিত স্বপ্ন , সেই থমাস আলভা ছিলেন টেসলার এই আবিস্কারের ঘোরতর বিরোধী । কারণ এডিসন বুঝতে পেরেছিলেন টেসলার এসির কাছে তার ডিসি মার খেয়ে যাবে । এডিসনের ব্যবসায়িক লোকসান হবে । তাই এডিসন টেসলা এবং টেসলার আবিষ্কৃত এসি কারেন...